Home জেলার খবর চাপে পড়ে ইসি বৈঠকের তারিখ বদল, তবু পিছু ছাড়ল না বিতর্ক

চাপে পড়ে ইসি বৈঠকের তারিখ বদল, তবু পিছু ছাড়ল না বিতর্ক

6 second read
0
178
চাপে পড়ে ইসি বৈঠকের তারিখ বদল, তবু পিছু ছাড়ল না বিতর্ক

প্রেস এজেন্সি ডেস্ক: খবরের জেরে অবশেষে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) বৈঠকের তারিখ একদিন পিছিয়ে দিল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  যদিও তাতে বিতর্ক বিন্দুমাত্র পিছু ছাড়ল না। বরং উস্কে দিল ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার পুরোনো অভ্যেসকেই।নতুন করে ইসি বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে ৩০ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটেয়। বৈঠকের দিন নতুন করে স্থির করা হলেও তাতে নির্বাচন বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ২ রা মে-এর পর বৈঠক ডাকা উচিত ছিল বলে মনে করছে শিক্ষামহল। কেন তড়িঘড়ি এই বৈঠক? এর পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুষ্টিমেয় কিছু  উচ্চপদস্থ আধিকারিকের স্বার্থ জড়িত আছে কিনা- উঠছে সেই প্রশ্নও। আমরা কয়েকটি কিস্তিতে খোঁজার চেষ্টা করছি এমনই প্রশ্নের উত্তর। আজ দ্বিতীয় কিস্তি।

কিস্তি ২ : 

ভোট না মিটতেই ইসি বৈঠক নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই ইসি বৈঠকের দিন পাল্টে ফেলল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৈঠকের তারিখ একদিন পিছিয়ে করা হল ৩০ এপ্রিল। যদিও ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে ইসি বৈঠক আদতে আদর্শ নির্বাচন বিধিভঙ্গের সামিল বলেই মনে করা হচ্ছে। কোনও উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই এই অভিসন্ধি কি না, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়ে।  একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইসি সদস্যদের নির্বাচন নিয়েও। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে কাঁচকলা দেখিয়ে ওই বৈঠকে ডাকা হয়েছে উচ্চ শিক্ষা দফতরের এক আইনি আধিকারিককে। তিনি ইসি সদস্য না হলেও কেন তাকে বৈঠকে ডাকা হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ওই আইনি আধিকারিককে খুশি করতেই নাকি আইনের তোয়াক্কা না করে তাকে বৈঠকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন খোদ উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার। এমন কাজকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। ওই আইনি আধিকারিককে ইসি বৈঠকে ডাকা হলেও ডাকা হয়নি সেই সমস্ত কলেজ প্রিন্সিপালদের, যারা দীর্ঘদিন ধরে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসি সদস্য। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ  কলেজগুলির সমস্যা তুলে ধরা তাদের কাজ। অথচ তাদেরকে বৈঠকেই ডাকা হয়নি। একইরকম ভাবে ডাকা হয়নি ইসির নতুন সদস্য ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক স্বদেশ পালকেও। বৈঠকে এমন ভাবে সদস্যদের ডাকা হয়েছে, যাতে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার ( যাদের মাথার ওপরে রয়েছেন উচ্চশিক্ষা দফতরের আইনি আধিকারিক) তাদের মনোমত সিদ্ধান্ত নিয়ে কোরাম তৈরি করতে পারেন। স্বভাবতই বৈঠকের নামে এটা কার্যত প্রহসন চলছে বলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই বৈঠকের কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্য সরকার মনোনীত ইসি সদস্য তথা বঙ্গরত্ন প্রাপ্ত শিক্ষক শক্তিপদ পাত্র ও অন্যান্যরা।  ইসি বৈঠকে আমন্ত্রিত উচ্চ শিক্ষা দফতরের বাকি আধিকারিকদের নাকি এমন বেআইনি বৈঠক সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে কাজ চালানো হচ্ছে বলে খবর।  ইসি বৈঠক প্রসঙ্গে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শান্তি ছেত্রী জানিয়েছেন, একটি মামলার এফিডেভিট জমা দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিতেই নাকি এই বৈঠক। উপাচার্যের এই সাফাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ইসি বৈঠকের যে সব অ্যাজেন্ডা নিজেদের স্বার্থে পাশ করিয়ে নিতে চাইছেন উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার, সেই সব অ্যাজেন্ডা থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই নাকি তিনি এফিডেভিট জমা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনেছেন। তাছাড়াও সমালোচনা হচ্ছে বৈঠক  তড়িঘড়ি সম্পন্ন করার বিষয় নিয়েও। কেন ২ রা মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারল না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? তবে কি দ্রুত কোনও অভিসন্ধি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে কর্তৃপক্ষের? স্বভাবতই এমন ঘটনায় নিন্দায় সরব হয়েছে জেলার শিক্ষামহল।

(ক্রমশ)

Load More Related Articles
Load More By Press Agency
Load More In জেলার খবর

Leave a Reply

Check Also

ঈদের সকালে মহানন্দায় তলিয়ে গেল যুবক

প্রেস এজেন্সি ডেস্ক: ঈদের সকালে পুরাতন মালদহের মহানন্দা নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল য…